রোজা এবং মুসলিম বিশ্বাস
মাথাব্যথা : প্রত্যেক মানুষ কোনো না কোনো সময় মাথাব্যথা দেখা দেয়।মাথাব্যথার সাধারণ কারণগুলো হলো, অবসাদ, ক্লান্তি কিংবা দুশ্চিন্তা। তবে একটা কথা মাথায় রাখবেন মাথাব্যথার একটি বড় কারণ পানি পান না করা।
কোষ্ঠকাঠিন্য : বয়স বৃদ্ধি ও খাদ্যভ্যাস পরিবর্তনের কারণে অনেক সময় কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে তবে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার একটি বড় কারণ পানি পান না করা। পানি ও পানিযুক্ত খাবার খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমবে। এছাড়া শরবত বা তরল খাবার পান করা, বেশি করে শাক-সবজি ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম এবং হাঁটাচলা করা কোষ্ঠকাঠিন্য কমে আসে। হজমের জন্য পানি খুবই জরুরি। গ্যাস্ট্রিক, বুক জ্বালা অনেকটা কমে যায় নিয়মিত পরিমানমত পানি পান করার ফলে।
শারীরিক শক্তির মাত্রা হ্রাস পাওয়া:
সঠিক সময় ও পরিমানমত পানি পান না করলে,শরীরে পানিশূন্যতার দেখা দেয়। ফলে আমাদের মস্তিষ্ক ও শরীরে শক্তির মাত্রা হ্রাস পায়।
পরিমানমত পানি পানের উপকারিতা: কিডনীর কার্যকারিতা সঠিক ভাবে পরিচালনা করার জন্য পানি অনেক সাহায্য করে। শরীরের ক্ষতিকর বিষাক্ত উপাদান যেমন :ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন, ইত্যাদি দুর করে।
ত্বক ও শরীর হাইড্রেট রাখে ফলে ত্বক উজ্জ্বল দেখায়।
পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি আমাদের শরীর থেকে সমস্ত টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। ফলে ব্রণ, অ্যাকনে প্রভৃতি সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়াও শরীরকে রোগ মুক্ত করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে পানি। পানি পান করলে পেশি, হাড় সুস্থ থাকে ও সেই সাথে এনার্জির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।
দৈনিক কতটুকু পরিমান পানি পান করা উচিত:
সাধারণ অবস্থায় একজন পুরুষের দৈনিক জন্য মিনিমাম ৩ লিটার বা ১০ থেকে ১২ গ্লাস পানি পান করা প্রয়োজন। নারীর জন্য ২ লিটার বা ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করা প্রয়োজন। এ ছাড়া গর্ভকালীন অবস্থায় বেশি পানি পান করতে হবে।
সুতরাং কাজের প্রয়োজনে বাহিরে যেতেই হয় এজন্য সাথে অবশ্যই পানির বোতল রাখার অভ্যাস করুন। নির্দিষ্ট মাপের বোতল থেকে পানি খান তাহলে দিনে কতটুকু পানি খেলেন তার পরিমাপ বোঝা যাবে। পরিমানমত পানি পান করুন এবং সুস্থ থাকুন।
দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকলে কি কি ক্ষতি হয়
সরাসরি প্রভাব
দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকার অভ্যাস থেকে গ্যাসের সমস্যা হয়, যা থেকে বুকে-পিঠে যন্ত্রণা কিংবা মাথার যন্ত্রণার মতো সমস্যা দেখা যায়। খালি পেটে থাকলে পিত্তথলি থেকে পিত্তরস নিঃসৃত হয়ে পেপটিক আলসার কিংবা ডিওডেনাল আলসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গলব্লাডারে স্টোন হওয়ার একটি বড় কারণ অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকা। এই অভ্যাস থাকলে রক্তে গ্লুকোজ সাপ্লাই সঠিক পরিমাণে হয় না। ফলে লিভার ফাংশন ড্যামেজ হতে পারে।
ভয়াবহ রুপ
ডায়াবেটিস রোগীরা দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকলে হঠাৎ রক্তে সুগারের মাত্রা কমে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন হলে ঠিক সময়ে না খেলে মাথা ঘোরা কিংবা অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।
কিডনি, হার্ট কিংবা লিভারের সমস্যার ওষুধ খেলে ও সিরোসিস অফ লিভারে অবশ্যই ঠিক মতো খেতে হবে।
অটো ইমিউন ডিজিজ থাকলে কিংবা দেহের ইমিউনিটি কম হলে যদি দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে, কোনও ভিড় এলাকায় কাজ করেন তাহলে শরীরে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ খেলে যদি দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকেন সেক্ষেত্রে শরীরে বিপরীত প্রতিক্রিয়া হয় এবং মাথা ঘোরা, বমি হতে পারে।
যাঁদের আগে ব্রেন স্ট্রোক হয়ে গিয়েছে কিংবা নার্ভের সমস্যা রয়েছে তাঁরা সময়ে, পরিমাণমতো না খেলে সমস্যা আরও জটিল হয়।
লেখক: তাসনিম আশিক পুষ্টিবিদ।
.png)
ধর্ম হচ্ছে বিশ্বাস ধর্মকে বিজ্ঞানের সাথে মিলানো বোকামি, বিজ্ঞান যুক্তি তর্ক এবং তথ্য উপরে নির্ভর করে
ReplyDelete